রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮

যৌনসঙ্গম আগে কি কি জানতে হবে ? | what is sex know in Bengali

যৌনসঙ্গম আগে কি কি জানতে হবে?


১। আপনি প্রথমবার যৌনসঙ্গম করে গর্ভবতী হতে পারেন। অনেকে মনে করেন প্রথমবার যৌনসঙ্গম করলে গর্ভবতী হবার কেনা সম্ভাবনা নেই । এটি একদমই ভুল একটা ধারণা। একজন ছেলে এবং মেয়ে যদি গর্ভনিরোধক ব্যবহার না করে যৌনসঙ্গম করে তবে মেয়েটির গর্ভবতী হবার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা প্রথমবার হোক অথবা দিত্বীয় বা তৃতীয় বার, একটা মেয়ের শরীরে মাসের যে সময়টিতে ডিম্ব নিঃসরণ হয় তখন যদি কোন রকম নিরোধ ছাড়াই সে যৌনসঙ্গম করে তাহলে সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই গর্ভবতী হবে। এমনকি এটি মেয়েটির প্রথম মাসিকের আগে আগেও হতে পারে।

এজন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণে আপনি কন্ট্রাসেপটিভ পিল অথবা কনডম ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনাকে গর্ভবতী হওয়া থেকে সুরক্ষিত করবে। অবশ্য কনডম ব্যবহারের একটি বাড়তি সুবিধা হল এটি আপনাকে সব ধরনের যৌন সংক্রামক রোগ থেকেও সুরক্ষিত রাখে। আপনি যৌনসঙ্গম করার আগে আপনার সঙ্গীর সাথে আলাপ করে নিন যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ এর কোন পদ্ধতি আপনারা ব্যবহার করতে চান, সেটি পিল না কনডম । এর পাশাপাশি এর ব্যবহারের নিয়মগুলোও ভালো করে জেনে নিন। কেননা সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে জন্মনিয়ন্ত্রকগুলো কখনই আপনাকে প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

২। আপনার সঙ্গী যদি তার পুরুষাঙ্গ বীর্যপাত হবার আগেও বের করে নেয় তারপরও আপনার গর্ভধারনের সম্ভাবনা আছে। কারণ অনেকের বীর্য পাতের পূর্বেও কিছু বীর্য/স্পার্ম ভিতরে পরতে পারে এবং যৌন সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাছাড়া সকল পুরুষ এভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। তাই অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে বলুন।

৩। মাসিকের সময় যৌনসঙ্গম করলেও গর্ভবতী হতে পারেন। অনেকে ভাবেন মাসিকের সময় অথবা তার আগে পরে নিরাপদ সময় বেছে যৌনসঙ্গম করলে গর্ভবতী হবার কোন সম্ভাবন নাই। তবে অনেক শুক্রাণু রয়েছে যেগুলা অনেকদিন বাঁচে এবং সেগুলা আপনাকে গর্ভবতী করতে সক্ষম।

৪ আপনি দাড়িয়ে বা বসে অথবা যেকোন অবস্থায় যৌনসঙ্গম করলেই গর্ভবতী হতে পারেন। আপনি হয়তোবা শুনে থাকবেন একটি মেয়ে দাড়িয়ে যৌনসঙ্গম করলে কখনো গর্ভবতী হবে না। কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্র বলে এমন কোন কথার ভিত্তি নেই। যৌনসঙ্গমের এমন কোন অবস্থান নেই অথবা এমন কোন জায়গা নেই ( বাথরুম,গোসলের সময় ) যেখানে যৌনসঙ্গম করলে কেউ গর্ভবতী হবেনা।

৫ তবে আপনি ওরাল যৌনসঙ্গম করে গর্ভবতী হবেন না। কেননা গর্ভবতী হতে হলে শুক্রাণু আপনার জরায়ুতে পৌছাতে হবে। এমনকি আপনি স্পার্ম গিলে ফেললেও প্রেগ্ন্যান্ট হবার সম্ভাবনা নেই । তবে আপনি গনোরিয়া, ক্লামাইডিয়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন । তাই কনডম ব্যবহার করা উত্তম।

৬। মাদক সেবন আপনাকে মিলনে পারদর্শী করেনা। মাদক সেবন করলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই তারা এমন কিছু করতে পারেন যৌনসঙ্গম করার সময় যেটির জন্য পরে অনুশোচনা বোধ করতে হতে পারে।

৭ আপনি পায়জামা, প্লাস্টিক ব্যাগ , আন্ডারওয়্যার , চিপস এর প্যাকেট কনডম এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারবেন না। শুধুমাত্র কনডমই পারবে আপনাকে গর্ভধারন এবং যৌন সংক্রামক অসুখের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দিতে।

৮ অনেকে মনে করেন যৌনসঙ্গম না করলে ছেলেদের পুরুষাংগ ফেটে যেতে পারে।এমন কথার কোন ভিত্তি নাই । কেননা যৌনসঙ্গম না করলে কোন ছেলের কোন ক্ষতি হয়না। শুক্রাণু সবসময় তৈরি হয় এবং তা শরীরের মাঝে এবজর্ব হয়ে যায় ।

৯। কনডম কখনো ধুয়ে পুণ:ব্যবহার করা যায়না। কনডম কখনো একবারের বেশি দুইবার ব্যবহার করা যায়না। কনডম ব্যবহার করে সেটি ফেলে দিবেন । এটি ছেলে এবং মেয়েদের উভয় ধরণের কনডমের ক্ষেত্রে সত্য। ৩০ মিনিট পরই কনডম পরিবর্তন করা উচিত কেননা কনডম দুর্বল হয়ে যায়।

১০। একবার যৌনসঙ্গম করাই গর্ভধারন হবার জন্য যথেষ্ট। অনেকে মনে করেন গর্ভধারন হবার জন্য অনেকবার যৌনসঙ্গম করতে হয় । তবে সঠিক সময়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া একবার যৌনসঙ্গম করাই যথেষ্ট ।

১১। যৌন সংক্রামক রোগে সবসময় লক্ষণ প্রকাশ পায়না। অনেকে মনে করেন প্রস্রাবের সময় জালা পোড়া করলে, যৌনাঙ্গ থেকে কোন কিছু বের হলে অথবা কোন বাজে গন্ধ বের হলে বুঝা যায় যে তার যৌন সংক্রামক রোগ আছে, তবে আসলে তা নয় । অনেক সময় তেমন কোন লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে এবং দেখা দিলেও আপনি সেটি খেয়াল নাও করতে পারেন । আপনি যদি মনে করেন আনার এমন হতে পারে তবে ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

১২। মেয়েদের প্রথম মাসিক হলেই সে যৌনসঙ্গম করবার জন্য যোগ্য নয়। মাসিক শুরু হওয়া মানে এই নয় যে আপনি যৌনসঙ্গম করবার জন্য যোগ্য। একেকজন একেক সময় যৌনসঙ্গম করতে আগ্রহী হয় । যদি আপনার বন্ধুরা যৌনসঙ্গম করে তবে আর মানে এই নয় যে আপনাকে ও করতে হবে। যৌনসঙ্গম করবার আগে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত।
Read more

আপানার শিশুর সাথে যৌনতা বিষয়ে কথা বলবেন কীভাবে?

আপানার শিশুর সাথে যৌনতা বিষয়ে কথা বলবেন কীভাবে?


আপানার শিশু যদি যৌন বিষয়াবলী নিয়ে প্রশ্ন করে তাহলে সে সেটির সঠিক জবাব পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। এটি নিয়ে কথা বলার জন্য কোন বয়সই খুব কম নয় – তাই এই বিষয়ে কীভাবে কথা বলবেন তা জেনে নিন।

ছোট বাচ্চারা তাদের শরীর এবং অন্য লোকেদের নিয়ে কৌতূহলী থাকে। তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে আপনি তাদেরকে তাদের শরীর, অনুভূতি এবং অন্যদের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করতে পারেন। এভাবে আপনি যৌনতা এবং মানবিক সম্পর্ক, বড় হয়ে ওঠা এবং বয়ঃপ্রাপ্তি ঘটার বিষয়ে তাদের সাথে খোলামেলা এবং সৎভাবে কথা বলার একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।

বাচ্চাদের সাথে যৌনতা নিয়ে কথা বললেই তারা বাইরে গিয়ে সেটি করতে আগ্রহী হবে এমন নয়। যেসব শিশুর বাবা-মায়েরা তাদের সাথে যৌন বিষয়াবলী নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে তারা কারও সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সময় নেয় এবং যখন তারা সেটি করে তখন জন্মনিরোধক () ব্যবহার করে বলে প্রমান পাওয়া গেছে।

আমার শিশুকে যৌনতা বিষয়ে কতটুকু জানাব?

এটি আপনার শিশুর ওপর নির্ভর করছে। যদি তারা আপনার উত্তরে সন্তুষ্ট থাকে এবং আরও প্রশ্ন না করে তাহলে আপনি সম্ভবত তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে জানিয়েছেন। যদি তারা আরও প্রশ্ন করে তাহলে তাদেরকে এ বিষয়ে আরও কিছু তথ্য দিন।

আপনাকে বিশদ বর্ণনা দিতে হবে না। যেমন ধরুন, আপানার তিন বছর বয়সী মেয়ে জিজ্ঞেস করল যে তার ভাইয়ের মত তার পুরুষাঙ্গ নেই কেন। তার জবাবে আপনি বলতে পারেন যে ছেলেদের যেমন পুরুষাঙ্গ বাইরে থাকে আর মেয়েদের যোনি থাকে ভিতরে। এই জবাবে আপনার মেয়ের সন্তুষ্ট থাকার কথা।

আপনার শিশু ঠিক কী জানতে চাইছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। সে যদি জিজ্ঞেস করে যে “বাচ্চারা আসে কোথা থেকে?”, তাহলে সে আসলে কী জানতে চাইছে তা বের করার চেষ্টা করুন। এটি প্রয়োজনের চাইতে জটিল করে তুলবেন না। আপনি প্রশ্নটির জবাবে বলতে পারেনঃ “বাচ্চারা মায়ের পেটের ভেতর বড় হয়, তারপর যথা সময়ে পৃথিবীতে আসে।” এটুকুই তার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা।

যদি তা না হয়, তাহলে সে জিজ্ঞেস করতে পারে “বাচ্চাটা ওখানে যায় কী করে?” তার জবাবে আপনি বলতে পারেন যে “একজন পুরুষ মানুষ সেখানে একটা বীজ বুনে দেয়।” অথবা আপানার শিশু হয়ত জিজ্ঞেস করল “বাচ্চাটা সেখান থেকে বেরিয়ে আসে কী করে”। তখন আপনি বলতে পারেন যে “সে সেখান থেকে মায়ের শরীরের বিশেষ একটা পথ, যাকে যোনিপথ বলে, সেটি দিয়ে বেরিয়ে আসে।”

যৌন বিষয়ে শিশুদের কী জানা দরকার?

তাদের জানা দরকার যে যৌনতা এবং মানবিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলাটা স্বাভাবিক একটা বিষয় এবং আপনি এতে অস্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। সে এটি আপানার গলার স্বর আর কথার ভঙ্গি থেকেই বুঝতে পারবে তাই যৌনতা নিয়ে কথা বলার সময় আর দশটা বিষয় নিয়ে যেভাবে কথা বলেন তেমন ভঙ্গিতেই কথা বলুন।

যৌনতা ছাড়াও নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার শিশুর জানা দরকারঃ

বয়ঃপ্রাপ্তি (puberty)-এর সময় তার শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটবে

বাচ্চা তৈরি হয় কীভাবে

কীভাবে গর্ভধারণ ঘটে এবং গর্ভনিরোধক কীভাবে তা প্রতিরোধ করতে পারে

নিরাপদ মিলনের উপায় এবং কনডম কী করে যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করে

যৌনতা এবং সম্পর্ক বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও এ বিষয়ে পরামর্শ কোথায় পাওয়া যায়।

বয়ঃপ্রাপ্তি ঘটার আগেই আপনার শিশুর এ বিষয়ে তথ্য জানাটা জরুরী, তা না হলে তারা এ সময়ের পরিবর্তনগুলোর কারনে ভীত-শঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। মেয়েদের বয়স ১০ বছর হওয়ার আগেই তাদের মাসিক সম্পর্কে এবং ছেলেদের বয়স ১২ হওয়ার আগেই তাদের সম্ভাব্য পরিবর্তন গুলোর বিষয়ে জানা থাকা দরকার। ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই মাসিক এবং পুরুষাঙ্গ দৃঢ় (erection) হওয়ার বিষয়ে না জানার কোন কারন নেই।

আপনার শিশু যদি তার বয়ঃপ্রাপ্তির দিকে এগিয়ে যায় কিন্তু এবিষয়ে প্রশ্ন না করে তাহলে, প্রতিদিনকার স্বাভাবিক কথাবার্তায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। যেমন, টিভির কোন অনুষ্ঠানের গল্প বা স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন থেকে আপনি এই প্রসঙ্গে যেতে পারেন।

আপানার শিশুকে বলুন যে সে বড় হচ্ছে, এবং সবারই ঘটে এমন কিছু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হবে এবং আপনি তাকে এর জন্য প্রস্তুত করতে চান।

যৌন বিষয়ে আপনার শিশুর জানা প্রয়োজন কেন

কোন ধরনের যৌন কার্যকলাপ শুরুর আগেই আপনার শিশুর যৌনতা, গর্ভধারণ, গর্ভনিরোধ, এবং নিরাপদ মিলনের বিষয়ে জানা জরুরী। এতে করে তারা নিরাপদ মিলনের উপায় বা কী করা উচিত নয় সে বিষয়ে সচেতন থাকবে। এভাবে তারা যখন উপযুক্ত সময় আসবে তখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বিয়ের আগে আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীরা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়না বলে আমরা মনে করলেও ‘মায়া আপা কী বলে’ এই বিভাগের প্রশ্নগুলো থেকে ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়। ১৪/১৫ বছরের ছেলেমেয়েরাও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। আমরা কম বয়সে যৌনমিলনে কাওকে আগ্রহী করে তুলছি না, কিন্তু এমনটি যে ঘটছে তা দেখে আমরা জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হচ্ছি যে “আপনি কি নিশ্চিত যে আপনার ছেলে-মেয়ে কী ভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয় সেটা তারা জানে?”

আপনার সন্তান মাধ্যমিকে পড়ার সময় তার বয়ঃপ্রাপ্তি ঘটবে এবং এসময় সে অন্যান্য বাচ্চাদের কাছ থেকে ভুল তথ্য পাবে। নিরাপদ যৌন মিলন সম্পর্কে সবারই জানা উচিত।

বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য জবাব তৈরি রাখুন

আপনি যৌনতা বিষয়ে যত খোলাখুলি আলোচনাই করুন না কেন, মার্কেটে বা বাসের ভিড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন এবং তার মোকাবেলার জন্য একটা তাৎক্ষনিক জবাব তৈরি রাখুন। যেমনঃ “ভাল প্রশ্ন করেছ, আমরা বাসায় গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলব” বা “ভাল কথা জিজ্ঞেস করেছ, কিন্তু এবিষয়ে আমাদের নিরিবিলি কথা বলা দরকার।” এবং অবশ্যই পরে মনে করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
Read more

আপনার ছেলে-মেয়েদের যৌনতা বিষয়ে বলুন | Tell your Children about sex

আপনার কিশোর ছেলে-মেয়েদের সাথে যৌনতা বিষয়ে কথা বলা



অনেক ছেলে মেয়েই তাদের বাবামায়ের সাথে যৌনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলতে চায়। এটা অনেকের কাছে কঠিন মনে হতে পারে, তবে এখানে আলাপ শুরু করার পাঁচটি উপায় দেয়া হল।

কখনো যৌনতা বা সম্পর্কের ব্যাপারে কথা উঠলে আপনার কিশোর ছেলে-মেয়ে কী বলে তা মন দিয়ে শুনুন। এখান থেকে আলোচনা শুরু করা সহজ হতে পারে।

যেমন, কনডম ()-এর প্রসঙ্গ উঠলে এটি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ কেন, কোথায় এগুলো পাওয়া যায়, এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তারা জানে কিনা যাচাই করে দেখুন। যৌনতা এবং এবং যৌন সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা শুরু করলেই তারা কারো সাথে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে তা নয়, কিন্তু যখন তারা সেটি করতে যাবে তখন তা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে করবে।

তারা কোনভাবে আপনাকে ভড়কে দিলে বা আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করলে তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। আপনার মতামত তাকে জানতে দিন এবং তার সিদ্ধান্তের ওপর যে আপনার আস্থা আছে সেটিও তাকে জানান।

আপনার ছেলেমেয়ের বন্ধুদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন

আপনার বাচ্চার বন্ধুরা বিষয়টি নিয়ে কী ভাবে তা জিজ্ঞেস করুন। এটি আপনার সন্তানের চিন্তা এবং ভীতি নিয়ে একটু ঘুরিয়ে কথা বলার একটা ভাল উপায়। যেমন কোন গর্ভবতী নারী দেখলে আপনি বাচ্চাকে বলতে পারেন যে আপনি ও আপনার বন্ধুরা ছোটবেলায় গর্ভবতী হওয়ার কথা চিন্তা করলেই ভয় পেতেন। আপনি তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে সঙ্গম না করে থাকা কেন “স্বাভাবিক” একটা জিনিস এবং যদি কেউ যৌন সম্পর্ক তৈরির পরিকল্পনা করে তাহলে কোত্থেকে তারা গর্ভনিরোধের জিনিস কিনতে পারে।

মাঝেমধ্যেই সংক্ষেপে যৌনতার বিষয়ে কথা বলুন

একবারে যৌনতা বিষয়ে সব কথা বলে শেষ করে ফেলার চেষ্টা করবেন না। এটিকে একটি উন্মুক্ত আলোচনার বিষয় করে তুলুন। যখনই এই প্রসঙ্গ উঠবে তখনই সংক্ষেপে এ ব্যাপারে কথা বলুন। যেন তারা বুঝতে পারে যে তারা তাদের যেকোনো সমস্যার ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারে ।

দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন বাসন ধোয়া বা টিভি দেখার সময় প্রসঙ্গটি তুলতে পারেন। এতে পুরো বিষয়টিকে তেমন “বিশেষ ঘটনা” মনে হবে না। আপনি কোন অনুষ্ঠান বা নাটকের গল্প বা কোন সেলিব্রেটির জীবনের ঘটনা ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার সন্তান কী বলে তা শুনুন। এরপর যৌন বাহিত সংক্রমণ ও গর্ভধারণ ঠেকাতে কেন কনডম বা গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে কথা বলুন। এগুলো কোথায় পাওয়া যায় তা যেন আপনার সন্তান জানে তাও নিশ্চিত করুন। এসময় সমালোচনা দৃষ্টিভঙ্গিতে কথা বলবেন না।

আপনার সন্তানের সঙ্গে কীভাবে যৌনতা বিষয়ে কথা বলবেন তা জানুন এখানেঃ।

স্কুলে তারা যৌনতার বিষয়ে কী শিখছে তা জানার চেষ্টা করুন

যৌনতা এবং সম্পর্কের বিষয়ে আপনার সন্তানের স্কুলে কী শেখানো হচ্ছে তা জানুন। আপনার সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন তারা এ ব্যাপারে কী ভাবে। তাদের এ বিষয়ে কোন জিজ্ঞাসা আছে কিনা তা জানতে চান।

আপনার সন্তান যৌন বিষয়গুলো নিয়ে কী ভাবে তা শুনুন

আপনার ছেলেমেয়ে বিষয়গুলো নিয়ে কীভাবে ভাবে তা জানার চেষ্টা করুন। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভালবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টা তার কাছে কেমন মনে হয় তা জিজ্ঞেস করতে পারেন।

আপনি এই আলোচনা থেকে পরিকল্পনাহীন ভাবে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হলে গর্ভধারণসহ আরও কী কী ঝুঁকির সম্মুখিন হতে হয় তা নিয়ে কথা বলতে পারেন। গর্ভধারণের বিষয়ে ছেলে না মেয়ে কার বেশি সচেতন হওয়া উচিত বলে আপনার সন্তান মনে করে তা নিয়েও কথা বলতে পারেন। ছেলে-মেয়ে দুজনই গর্ভ নিরোধন ()-এর দায়িত্ব নিতে পারে তা তাকে বুঝিয়ে বলুন।

আপনি নিজে যৌনতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন তা নিশ্চিত হয়ে নিন

যৌনতা অনেক বিস্তৃত একটি বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের শরীরের কর্মপ্রণালী, মানবিক সম্পর্ক এবং অনুভূতি, কত ধরনের গর্ভ নিরোধক পাওয়া যায় এবং কোথায় পাওয়া যায়, যৌন বাহিত সংক্রমণ, এগুলোর পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং আরও অনেক বিষয়।

আপনি যদি এগুলো সম্বন্ধে সঠিক তথ্য জানেন তাহলে আপনার সন্তানের প্রশ্নের জবাব অনেক আত্মবিশ্বাসের সাথে দিতে পারবেন। যদি আপনি কোন কিছু না জানেন তাহলে বলুন আপনি জানেন না, কিন্তু কোথাও থেকে জেনে নিয়ে পরে তাকে বলবেন। সে ব্যাপারে সঠিক তথ্যটি খুঁজে বের করুন এবং তাকে জানান অথবা দু’জনে মিলেই তথ্যটি খুঁজে বের করুন।
Read more

যৌন সংক্রমণকে ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক/বিধিনিষেধ

যৌন সংক্রমণকে ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক/বিধিনিষেধ : 


সমাজের একটি অপ্রত্যাশিত চিত্র
সম্ভবত পৃথিবীতে যে বিষয়টির সাথে সবচেয়ে বেশি বিধিনিষেধের বেড়াজাল বা ট্যাবু জড়িয়ে রয়েছে তা হল ‘যৌন’ নামক এ বিষয়টি। আর সেজন্যই হয়ত যৌন পরিবাহিত সংক্রমণকে পুরো বিশ্বজুড়েই কলঙ্কিত করা হয়। আমাদের মত রক্ষণশীল দেশেও এর ব্যাতিক্রম কিছু ঘটেনা। এখানে এ ধরণের সংক্রমণের সাথে জড়িত মানুষদের নিন্দা করা হয়। এমনকি এ মানুষগুলোকে এ ধরণের সংক্রমণের জন্য ‘নোংরা’, ‘অপরিষ্কার’, ‘বিশৃঙ্খল’ ও সবচেয়ে খারাপ বলে বিবেচনা করা হয়। ইতিহাসের পাতা নেড়ে দেখলে দেখা যায় যে, যৌন পরিবাহিত সংক্রমণকে সবসময় কলঙ্কিত করা হয়েছে এবং এর সম্পর্কে মানুষ সবসময় একটি ভুল ও বদ্ধ ধারণা ধারণ করে রেখেছে। যা এ সংক্রমণে আক্রান্ত মানুষটিকে শেষ পর্যন্ত কোন ধরণের চিকিৎসা এবং সাহায্য ছাড়াই এর চূড়ান্ত পরিনতির দিকে ঠেলে দেয়।

তাছাড়া এ ধরণের বিচার-বিবেচনা সবসময় উল্টো ফলই বয়ে নিয়ে আসে। যেমন-


  • এই ব্যাপারে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত শিক্ষা,

  • সংক্রমণের মা্ত্রার আরো বৃদ্ধি,

  • এর প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় কম সমর্থন এবং

  • উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সীবাবদ্ধতা


এক্ষেত্রে শুধুমাত্র সেবাগুলোর সহজলভ্যতা ও সহজগামিতা নিশ্চিত করায় নয় বরং সামাজিক এবং মানসিক কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো এ জীবানুতে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা দেয় । যখনই কেউ সন্দেহ করে যে তার কোন যৌন রোগ আছে, তৎক্ষনাত সে ডাক্তার দেখানোর ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এটা হতে পারে কোন রোগ, দুর্বলতা, যৌনাঙ্গের কোন অস্বাভাবিকতা । এর সাথে ধরনের রোগীর একজন চিকিৎসক দেখানোর প্রবণতা বেশ কিছু বিষয়ের উপরও নির্ভর করে যেমন- এ রোগের অবস্থাটা কেমন, কোন অঙ্গটা এর সাথে জড়িত, এ রোগটি পরিবহনের ভাব/মাত্রাটা কেমন ইত্যাদি। কেবলমাত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েই একজন ডাক্তার দেখাতে আগ্রহী হয়।

সামাজিক বিধি-নিষেধই মূলত এ ধরনের চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। যে মানুষটির অনেক বড় বিষযের সাথে জড়িত সে অনেক অল্পেই অথবা সামান্য একটু গা গরম হলেই ডাক্তারের কাছে ছুটে। অথচ অবাক করার মত বিষয় হল যখন যৌন পরিবাহিত রোগের কথা আসে তখন তারা তাদের সমস্যাটা এড়িয়ে যেতে চায় এবং লক্ষণগুলো যতটা পারা যায় ততটা ছোট করে দেখতে চায়। বাংলাদেশের মত রক্ষণশীল দেশে একজনের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয় কারো যৌন জীবনের এ বিষয়টিকে স্বীকার করাতে। আর দেশের খুব কম মানুষই সেটা করতে পারে।

এ রোগটি সনাক্ত করতে এবং চিকিৎসা ও প্রতিকারের প্রধান বাধ হচ্ছে যৌন প্রকাশ এবং এর অনুভূতির প্রতি মানুষের অপমানজনক মনোভাব। অনেক সময় এ বিষয়টিকে ঘিরে মানুষের মাঝে যে বিধি-নিষেধের বেড়াজাল তা এ জীবানুর চেয়ে আক্রান্ত সে মানুষটিকে বেশি ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগটি যদিও আরোগ্য করা যায়না তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু একে ঘিবে যে বিধি-নিষেধ তা এর প্রতিরোধকে প্রায় অসম্ভব করে দেয়। কেননা এ বিধি-নিষেধ ভাল, সৎ এবং পর্যাপ্ত তথ্যপূর্ণ আলোচনাকে অনেক কঠিন করে দেয়। তাই এ রোগটির প্রসারকে ফলপ্রসুভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করেতে এর প্রতি মানুষের মনোভাবের পরিবর্তনটা অনেক জরুরী।

বাংলাদেশে যৌনশিক্ষার চিত্রটা একটু অন্য রকম। এখানে এ শিক্ষাটা গ্রহণ করা হয়না বরং এটা থেকে নিজেকে দূরে রাখা্ হয়। দেশের যৌন সক্রিয় মানুষ এবং যুবকদের মাঝে যৌন শিক্ষার বিষয়টির চিত্র প্রায এইরকম। গ্রামীণ মানুষগুলোর কথা বাদ দিয়ে যদি শুধু শহরের মানুষগুলো মনোভাব দেখলে বুঝা যায় যে, তারা কনডম ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা কেননা বিষয়টি তাদের কাছে পুরষালী বলে মনে হয়না এবং তার এতে সন্তুষ্ট বোধ করেনা। অন্যদিকে বিশেষভাবে কিশোরী ও নারীরা মেরিস্টোর বা ফার্মেসীগুলো থেকে গর্ভনিরোধ ক্রয় করতে খুবই লজ্জা বোধ করে । তাই এ রোগ এবং গর্ভনিরোধকে ঘিরে পর্যাপ্ত তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করাটা অনেক জরুরী। এর সাথে সুস্থ্য যৌনস্বাস্থ্যের প্রচারণা করাটা এ রোগটির সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে ও এটি প্রতিরোধ করতে একটি প্রধান বিষয় হওয়া উচিত।

এ রোগটিকে ঘিরে স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক ও হাসপাতাল যেমন মেরিস্টোপগুলো অপনাকে কোন ধরণের বিচার না করে দেশে ভাল তথ্য ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে । মায়া আপাতে আমরা আপনাকে কোন কলঙ্ক না দিয়েই এ রোগটির উপর প্রতিনিয়তই আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি । দুটি ক্ষেত্রেই রোগীরা এ সহায়াতাকে অনেক প্রশংসা করেছে এবং সেসাথে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য ও চিকিৎসা পেয়েছে। আরো তথ্যের জন্য মেরিস্টোপ সেবাসমূহের এ ওয়েবসাইটটি আপনি ভিজিট করতে পারেন অথবা নিচের ঠিকানাই যোগাযোগ করতে পারেন – বাসা ৬/২, ব্লক- এফ, লালমাটিয়া হাউজিং এস্টেট, কাজি নজরুল ইসলাম রোড, লালমটিয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ।

আসুন আমরা যৌন পরিবাহিত রোগ নিয়ে কথা বলি। কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জানাতে সহায়তা করি যে তাদের কোনগুলো করা উচিত এবং কোনগুলো অনুচিত। কিভাবে লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং কখন ও কোথায় সাহায্য চাইতে হবে। সহজে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন দুর্বলতার মতোই হচ্ছে যৌন পরিবাহিত রোগগুলো। আমরা এ রোগগুলোকে সামাজিক কলঙ্ক থেকে হয়ত বের করে আনতে পারিনা, কিন্তু সামাজিক কলঙ্ককে তো এ রোগগুলো থেকে বর করে আনতে পারি।
Read more

কিছু ক্ষেত্রে না বলতে শিখুন | Say no to do Sex with your partner

“না” বলতে শিখুন



যৌনমিলন (অথবা চুম্বন, স্পর্শ বা অন্য যে কোন যৌন কার্যকলাপ)-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে “না” বলতে কখনো কুণ্ঠা বোধ করবেন না। জীবনের বিভিন্ন সময়ে ও বয়সে মেয়েরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামাজিক বা আবেগের কারনে তাদের সঙ্গীর দ্বারা যৌনমিলনের জন্য চাপের মুখে পড়েন। এই চাপে কয়েকটি বিষয় কাজ করে যার কারনে বিশেষ করে তরুণীরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যাতে তারা পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। পৌরুষের প্রচলিত ধারনার কারনে যুবক ও তরুণেরা স্বচ্ছন্দ বোধ করার আগেই যৌনমিলনের জন্য চাপ অনুভব করেন।

বাংলাদেশে একটা জটিল স্ববিরোধী অবস্থা বিরাজমান, যেখানে যৌনতা ও যৌন সম্পর্ক নিয়ে কথা বলাটা তেমন স্বাভাবিক নয়, কিন্তু অপর দিকে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, সঙ্গীর দাবির কাছে নতি শিকার করার একটা চাপ থাকে। একারনে কাউকে “না” বলতে পারার অধিকার নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কীভাবে আপনি না বলতে পারেন এবং আপনার সম্পর্ক ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নিজের মতটা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে পারেন তা জেনে নিন।

যেকোনো পর্যায়ে না

এটা মনে রাখা জরুরী যে সম্পর্কের যেকোনো পর্যায়েই আপনি কোন কিছুতে অসম্মতি জানাতে পারেন। কেউ আপনাকে কোন বিষয়ে জোর করতে পারে না। প্রেমিক, প্রেমিকা, স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক তাকে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার আপনার আছে, এবং সে কোন কিছুতে না করলে সেটির প্রতিও আপনাকে সম্মান দেখাতে হবে।

প্রথমবার হোক আর যাই হোক

বিভিন্ন মানুষ তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক তৈরি করে। ভিন্ন ভিন্ন কারনে কেউ কেউ অল্প বয়সেই আবার কেউ কেউ বেশি বয়সে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে।

আপনি আগে শেষবার যার সাথে যখনই যৌনমিলন করে থাকুন না কেন, পরে সেই সময়ের চাইতে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারেন। আপনি একবার কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে থাকলেই আবার আপনাকে কারো সাথে সেটি করতে হবে এমন নয়। প্রতিটি অবস্থাই আলাদা, তাই একেকবার আপনি একেক রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আপনি পছন্দনীয় কাউকে খুঁজে পেলে, তার সাথে যৌনমিলনের আগে সপ্তাহ, মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যেতে পারে। আস্তে-ধীরে এগোন, এবং আপনার ও আপনার সঙ্গীর অনুভূতিগুলো বিবেচনায় আনুন। কখনো কেউ কাওকে এবিষয়ে চাপ প্রয়োগ করবেন না।

আপনার সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলুন। কথা বললে কোনটি সঠিক সময় তা জানা যায়, এবং আপানারা দুজনই কী ভাবছেন তা আন্দাজ করার চাইতে নিশ্চিতভাবে জানা যায়।

কীভাবে না করবেন

অনেক সময়ই দেখা যায় যে কম বয়স্কদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে, ভুলিয়ে-ভালিয়ে ছেলেরা বা পুরুষেরা তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। এসময় অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট কিছু ডায়লগ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সম্পর্কের প্রস্তাবনাটা বিভিন্ন রকম হলেও শেষ পর্যন্ত যা করা হয় তা একই। যদি এভাবে কেউ আপনাকে ভোলাতে চায় তাহলে তার জবাব আপনি এভাবে দিতে পারেনঃ

সে যদি বলেঃ “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না?”

আপনি বলবেনঃ “বাসি, কিন্তু তোমাকে আমি সম্মানও করি” অথবা বলুন “তুমি খুব সুন্দর, কিন্তু আমি তোমাকে আরও ভালোভাবে জানতে চাই।”

সে যদি বলেঃ “আমার বন্ধুদের ধারনা আমাদের এটা এতদিনে করা উচিত ছিল।”

আপনি বলবেনঃ “আমাদের জন্য কোনটা ভাল সেটা ওরা জানে না।” অথবা বলুন “আমার মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত তোমার।”

সে যদি বলেঃ “আমাদের কনডম ব্যবহার করার দরকার নেই।”

আপনি বলবেনঃ “আমি মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত নই এবং কোন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি নিতে পারব না।”

সে বলতে পারেঃ “এটা আমাদের করে ফেলা উচিত।”

তখন আপনি বলবেনঃ “যদি আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি তাহলে সেটা অনেক বেশি ভাল হবে।”

সে যদি বলেঃ “তুমি আমাকে ভালবাসলে না করতে পারতে না।”

আপনি বলবেনঃ “তোমাকে ভালবাসি বলেই আমি অপেক্ষা করতে চাইছি।” অথবা “তুমি আমাকে ভালবাসলে এমন কথা বলতে না।”

সে যদি বলেঃ “যদি আমরা শীগগিরি এটা না করি তাহলে আমি পাগল হয়ে যাব!”

আপনি বলুনঃ “বায়োলজি পড় ভাল করে… অপেক্ষা করে থাকাটা খারাপ কিছু না।”

সে বলতে পারেঃ “কিন্তু আমরা এতদিন ধরে একসাথে আছি!”

আপনি বলুনঃ “একসঙ্গে থাকলেই এটা করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি কখন রেডি সেটা আমি ঠিক করব।”

সে বলবেঃ “আমরা তো বিয়ে করবই।”

আপনি বলবেনঃ “তাহলে বিয়ে পর্যন্তই অপেক্ষা কর।”

আপনারা দুজনই মিলিত হতে সম্মত হলে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করুনঃ

· যৌনবাহিত রোগ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য অবশ্যই কনডম () ব্যবহার করবেন।

·অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃত্ব থেকে রক্ষা পেতে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করুন। গর্ভনিরোধক বিষয়ে আরও জানুন এইখানেঃ।

“না” বলাটা অভ্যেস করুন

শুনতে অদ্ভুত শোনালেও কাওকে “না” বলাটা প্র্যাকটিস করে নিনঃ

“না, আমি রেডি নই।”

“না, আমি এটা করতে চাই না।”

“না, এটা ঠিক মনে হচ্ছে না।”

অথবা আরও সহজঃ

শুধু “না।”

আপনি যদি যৌনমিলনে আগ্রহী না হন তাহলে আপনাকে পছন্দ করেন এমন যে কেউ আপনার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাবেন, আপনি তাদের সাথে আগে এটি করে থাকলেও।

আপনার সঙ্গী “যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো তাহলে তুমি এটা করবে” এমন কথা বলে তাহলে তাতে বিচলিত হবেন না। এটা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। আপনি তাকে যতই ভালবাসেন না কেন, সেটি প্রমান করার জন্য আপনাকে শারীরিকভাবে মিলিত হতে হবে না।

জেদ কখন যৌন আক্রমণ (Sexual Assault) হয়ে ওঠে

অনুচিতভাবে শরীর স্পর্শ করা থেকে শুরু করে জীবন সংশয় হওয়ার আক্রমণ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের যৌন আক্রমণ হতে পারে। যৌন আক্রমণের শিকার হলে আঘাত বা আঁচড়ের চিহ্ন থাকবে এটা ভুল ধারনা। যৌন আক্রমণের কোন চিহ্ন দেখা না গেলেও সেটি একটি অপরাধ।

সাধারণত ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সের মেয়েরা এটির শিকার হয়ে থাকেন। তবে যেকোনো বয়স, জাতীয়তা বা যৌনরুচির নারী ও পুরুষ এটির শিকার হতে পারেন। এবং অনেক সময়ই পরিচিত কেউ আক্রমণটি করে থাকেন। সে আপনার সঙ্গী, প্রাক্তন প্রেমিক, স্বামী, আত্মীয়, বন্ধু বা সহকর্মী হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্য চাইতে কোন ভয় পাবেন না।

পারিবারিক নির্যাতন (Domestic violence)

যখন সঙ্গীদের মধ্যে কেউ অপর জনকে হেনস্তা করে করে তখন সেটিকে পারিবারিক নির্যাতন বলে। এটি মানসিক, শারীরিক বা যৌন নির্যাতন হতে পারে, এবং এর মধ্যে আপনাকে জোর করে যৌনমিলনে বাধ্য করাও পড়ে। আপনার সাথে এমন হয়ে থাকলে তার প্রতিকার রয়েছে। 
Read more

যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারণ প্রশ্নসমূহ | some general question about sex

যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারণ প্রশ্নসমূহ


যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখানে দেয়া হলো।

তরল স্রাব


প্রঃ আমার তরল স্রাব হচ্ছে যার গন্ধ খুবই অস্বস্তিকর ও আঁশটে। আমি ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছি কারণ তিনি আমার মা’কে চিনেন। এ সমস্যা কী হতে পারে? এটা কি নিজ থেকেই দূর হয়ে যাবে?

উঃ তরল স্রাব হওয়া যদিও স্বাভাবিক হতে পারে, তবে এর সাথে আঁশটে গন্ধ এর মতো অন্যান্য উপসর্গ যদি দেখা যায় তাহলে ডাক্তার দেখানো অত্যাবশ্যক। এ জাতীয় সমস্যার পিছনে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (বিভি) নামক একটি অত্যান্ত সাধারণ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

এ সমস্যা যৌনবাহিত নয়, এবং এটির পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ সহজ। আপনার গাইনাকোলোজিস্ট বা নিকটস্থ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে যান, সেখানে তারা সমস্যা সম্পর্কে বলতে পারবে এবং চিকিৎসা প্রদান করতে পারবে। এমনকি আপনার ডাক্তার আপনার মাকে চিনে থাকলেও আপনি ডাক্তারের কাছে কখনো পরামর্শ বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য গেলে আপনার গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা করা উনার দায়িত্ব বা কর্তব্য।

যোনিস্রাব


প্রঃ গত সপ্তাহ থেকে আমি যোনি দিয়ে হালকা ধরনের পদার্থ নির্গমন হতে লক্ষ্য করছি। এটার বাজে গন্ধ নেই, তবে এটি সাধারণত হয়ে থাকে না। এটি দূর করার জন্য কোনো ক্রীম বা মলম ব্যবহারের পরামর্শ কি আপনি দিতে পারেন?

উঃ নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথে তরল জাতীয় পদার্থ বের হয়ে আসা (; ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ) স্বাভাবিক এবং এ তরল যোনির স্বাভাবিক পদার্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এ সমস্যা যদি নতুন হতে দেখা যায়, তাহলে আপনি হয়ত যোনির সংক্রমণে আক্রান্ত।

এ সমস্যার পিছনে দায়ী সবচেয়ে সাধারণ সংক্রমণসমূহ যৌনবাহিত নয়, তবে ডাক্তার বা যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভাল।

কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে কি এইচআইভি সংক্রমিত হওয়া সম্ভব?


প্রঃ সম্প্রতি আমি আমার ছেলেবন্ধুর (বয়ফ্রেন্ডের) সাথে প্রথমবার যৌন মিলন করেছি। আমরা কনডম ব্যবহার করেছি, তবে তা এইচআইভি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করবে কি না সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই। আমার একজন বন্ধু বলেছে যে রাবারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কথা কী সঠিক?

উঃ অনেক বন্ধুদের মতোই আপনার বন্ধুর মতামতও এক্ষেত্রে ভুল। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কনডম এইচআইভি প্রতিরোধে সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা প্রদান করে। সেই সাথে এটি অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) প্রতিরোধ করে । অযাচিত গর্ভাবস্থা রোধ করতেও কনডম সহায়তা করে, যদিও অধিকাংশ নারী অনিচ্ছায় গর্ভবতী হওয়া ও যৌনবাহিত রোগ উভয় থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কনডমের পাশাপাশি জন্মবিরতির অন্যান্য নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিও গ্রহণ করেন। কনডমের মধ্যে কোনো ক্ষুদ্র ছিদ্র উপস্থিত থাকে না।

আমার জরুরী ভিত্তিতে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি প্রয়োজন


প্রঃ সকালে যে জন্মনিরোধ পিল (বড়ি) গ্রহণ করতে হয় তা কোথায় পাওয়া যায়? গতরাতে আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের (ছেলেবন্ধু) সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হয়েছি এবং আমরা কোনো কনডম ব্যবহার করিনি। আজকে যদি আমি পিল খাই তাহলে কি কাজ হবে?

উঃ হ্যাঁ, কোনো সমস্যা ছাড়াই আপনি আজই পিল গ্রহন পারেন। যেকোন ফার্মেসি থেকে আপনি জরুরী হরমোনাল (হরমোন মিশ্রিত) পিল সংগ্রহ করতে পারবেন। জরুরী জন্মনিরোধ পদ্ধতি (সকালে গৃহীত পিল) অনিরাপদ যৌন মিলনের পরবর্তী ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে। তবে তা যত শীঘ্র আপনি গ্রহণ করবেন, তা ততোই কার্যকর হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কনডম ফেটে যাওয়া, পিল গ্রহণে ভুলে যাওয়া, ধর্ষণ প্রভৃতি জরুরী সময়ে সকালে খাওয়ার পিল গ্রহণ করতে হয়। জন্মবিরতির একটি নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে এটি গ্রহণ করা উচিৎ হবে না।

বহু বছর পূর্বের শারীরিক মিলনে কি যৌনবাহিত সংক্রমণ হয়?


প্রঃ ২০ বছর বয়সের শুরুতে আমি অনিরাপদ যৌন মিলন করেছি। এর ফলে কি আমি অজান্তে সংক্রমিত হতে পারি?

উঃ এইচআইভি, এইচবিভি প্রভৃতি সংক্রমণের সংক্রমিত হওয়া সম্ভব এবং এসব সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশিত হতে বহু বছর সময় লেগে যায়। ক্ল্যামিডিয়া আক্রান্ত হলে প্রায়ই উপসর্গ অপ্রকাশিত থাকে, তবে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে তা গর্ভধারণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কোনো সন্দেহ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

পূর্বে সংক্রমিত হলে তা কি গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করবে?


প্রঃ তরুণ বয়সে আমি একটি সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলাম এবং তার চিকিৎসাও গ্রহণ করেছি। এখন আমি সন্তান গ্রহণের কথা চিন্তা করছি। গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন সংক্রমণ বাধা হয়ে দাঁড়াবে?

উঃ চিকিৎসা গ্রহণ না করা হয়ে থাকলে ক্ল্যামিডিয়া এবং গনোরিয়ার কারনে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হতে পারে, যদিও এ সংক্রমণে আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যে কোনো স্থায়ী সমস্যা পরিলক্ষিত হয় না। একবার শনাক্ত করা হয়ে গেলে ক্ল্যামিডিয়ার চিকিৎসা সহজেই প্রদান করা যায়, কিন্তু সংক্রমণে আক্রান্তদের অধিকাংশের মধ্যে কোনো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না এবং আক্রান্তরাও সংক্রমিত হওয়া সম্পর্কে অবগত থাকেন না। আপনি যদি এ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করেন, তাহলে তা চেক আপ ও পরীক্ষা করান। ক্ল্যামিডিয়ার পরীক্ষার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূত্র পরীক্ষা করানো হয়।

অতীতে যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকলে সে সম্পর্কে কি সঙ্গীকে বলা প্রয়োজন?


প্রঃ কয়েক বছর পূর্বে আমি একটি সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলাম। আমার নতুন মেয়েবন্ধুকে (গার্লফ্রেন্ড) কি এ বিষয়ে বলা প্রয়োজন?

উঃ এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন তার উপর। অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণে কয়েক ধরনের সংক্রমণে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় হয়ে যায়, তবে কিছু কিছু সংক্রমণ চিকিৎসা গ্রহণের পরও আবার ফিরে আসে অথবা কোন উপসর্গের সৃষ্টি করে না।

আপনার যৌন ইতিহাস নিয়ে নতুন সঙ্গীঁর সাথে খোলামেলা আলোচনা করা সাধারণত ভালো এবং নিরাপদ শারীরিক মিলনের জন্য সবসময় কনডম ব্যবহার করুন। যদি আপনি নিশ্চিত না হন, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

যৌনবাহিত সংক্রমণের জীবাণু বহন করে তাতে আক্রান্ত না হওয়া কি সম্ভব?


প্রঃ কোন রোগে আক্রান্ত না হয়ে কেউ কেউ উক্ত রোগের জীবাণু বহন করতে পারে বলে আমি শুনেছি। এমন সংক্রমণ কি রয়েছে যাতে শুধু পুরুষ অথবা শুধু নারীরাই সংক্রমিত হোন?

উঃ না, আক্রান্ত না হয়ে কোনো রোগের জীবাণু বহন করা সম্ভব নয়। তবে লক্ষণ দেখা না দিলেও যৌন সংক্রমণে আক্রান্ত হতে দেখা যায়, তবে শারীরিক মিলনের মাধ্যমেই তা অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে।

যদি সঙ্গী যৌনবাহিত সংক্রমনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আমাকেও কি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে?


প্রঃ আমার মেয়েবন্ধু (গার্লফ্রেন্ড) ক্ল্যামিডিয়াতে আক্রান্ত এবং তার জন্য আমাকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু আমার মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাহলে আমি কেন চিকিৎসা গ্রহণ করব?

উঃ যদি আপনার সঙ্গীনি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে লক্ষণ প্রকাশিত না হলেও চিকিৎসা গ্রহণ করা আপনার জন্য খুবই প্রয়োজন, কেননা ক্ল্যামিডিয়ায় আক্রান্তদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না ।

যদি চিকিৎসা গ্রহণ না করেন, তাহলে এ সংক্রমণ আপনার মাধ্যমে পুনরায় আপনার সঙ্গীঁনির কাছে চলে যাবে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্ল্যামিডিয়া অত্যন্ত জটিল একটি সমস্যা, এবং চিকিৎসা গ্রহণ না করলে তা বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি করে।

আমার কি যৌনবাহিত সংক্রমণ বা STI (sexually transmitted infection) পরীক্ষা করানো উচিত?


প্রঃ আমার কি নিয়মিত একটি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখানো বা চেক-আপ করানো উচিত বলে মনে করেন? যৌনকর্মে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে আমার অসংখ্য সঙ্গী ছিলো।

উঃ অবশ্যই চেক-আপ করানো একটি ভালো চিন্তা হবে। অধিকাংশ সংক্রমণের কোনো উপসর্গ প্রকাশিত হয় না এবং চেক-আপ করানোর মাধ্যমে তা বেশ সহজে ধরা পড়ে। আপনি আপনার সঙ্গীকে যতই বিশ্বাস করুন না কেন, তাদের অতীতের ইতিহাস নিশ্চিতরূপে আপনি জানতে পারবেন না এবং সেজন্য চেক-আপ করানোই উত্তম।


চিকিৎসা প্রদানে কত দিন লাগে?


প্রঃ STI- এর চিকিৎসা প্রদানের কোর্স বা ক্রমধারায় সাধারণত কত দিন লাগে?

উঃ এটার কোনো গড় হিসাব নেই, কারন একেক ধরনের STI একেক রকম হয়। অনেক যৌনবাহিত সংক্রমণের চিকিৎসা একটি ডোজের মাধ্যমে করা হয়। তবে, কয়েকটি চিকিৎসার পর কোর্সের মেয়াদ ১ থেকে ২ সপ্তাহ বা তার থেকেও দীর্ঘ হতে পারে।

যখন ক্লিনিকে সংক্রমণের পরীক্ষা করানো হয় তখন কি হয়ে থাকে?


প্রঃ আমার র‌্যাশ (ফুসকুড়ি) হয়েছে এবং আমি তা নিয়ে ভয়ে আছি এবং যদি আমি ক্লিনিকে যাই তাহলে কি হবে তা নিয়েও আমি ভীত। এতে আমি ব্যথা পাব?

উঃ না, এতে আপনি ব্যথা পাবেন না, সাধারণত একজন ডাক্তার আপনার যৌন ইতিহাস নিয়ে জানতে চাইবেন এবং আপনার কোন পরীক্ষাটি করা প্রয়োজন তা নিয়ে পরামর্শ দিবেন।

সাধারণত, এইচআইভি ও সিফিলিস নির্ণয়ের জন্য আপনাকে শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষা এবং ক্লাইমিডিয়া ও গনোরিয়ার জন্য মূত্র পরীক্ষা করাতে হবে। কিছু কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে তুলা দ্বারা যোনির অভ্যন্তরীণ পদার্থ পরীক্ষা করা হয়। কিছু কিছু পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গের অগ্রভাগ থেকে সামান্য কিছু নমুনা তুলা দ্বারা সংগ্রহ করা হয়।

কর্মরত পরীক্ষক চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত আপনাকে বলবেন। আপনার হাতেই পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তাই পরামর্শকৃত কোনো পরীক্ষা আপনার পছন্দ না হলে সে সম্পর্কে তাদের বলুন।

গাইনোকোলোজিস্টের পরামর্শ নেয়া সম্পর্কে জানুন এখানেঃ ।

শারীরিক মিলন ব্যতীত এইচআইভি সংক্রমিত হওয়া কী সম্ভব?


প্রঃ বিদেশ গমনে এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয় বলে আমি শুনেছি। অবকাশ যাপনকালে কারো সাথে শয়নের পরিবর্তে অন্যান্য যৌনকর্মের কারণে কী এইচআইভি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

উঃ আপনার প্রশ্ন অনুসারে যদি আপনি অনিরাপদ (কনডম বিহীন) যোনিগত অথবা অ্যানাল সেক্স না করে থাকেন, তাহলে এইচআইভি’তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপনার ক্ষেত্রে কম থাকবে। চুম্বন অথবা স্পর্শ করার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।

যদি আপনি কোনো পুরুষকে ওরাল সেক্স প্রদান করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে এইচআইভি’তে আক্রান্ত হওয়ার স্বল্প ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে তিনি যদি আপনার মুখের সংস্পর্শে আসেন। ওরাল সেক্সের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি কনডম (আপনি ফ্লেভার্‌ড বা স্বাদযুক্ত কনডম নিতে পারেন) ব্যবহার করেন। যদি কোনো পুরুষ আপনাকে ওরাল সেক্স প্রদান করে, তাহলে সেক্ষেত্রে এইচআইভি’র কোনো ঝুঁকি থাকে না।


গোসলের মাধ্যমে কি STI ছড়ায়?


প্রঃ আমি ছাত্রদের সাথে একটি বাথরুম বা গোসলখানা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছি এবং গোসল করার পূর্বে বাথ টাব (গোসলের জন্য ব্যবহৃত গামলা বিশেষ) সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত করা উচিত এরকম আমি শুনেছি। কেননা এই বাথ টাব ব্যবহারকারী অন্য কোন ব্যক্তি যৌনবাহিত রোগে সংক্রমিত কি না তা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। একই বাথ টাব ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? এসটিআই এ আক্রান্ত কারো সাথে একই সাথে গোসল করার ফলাফল কি হতে পারে? আমার কি পরীক্ষা করানো উচিত?

উঃ অন্য ব্যক্তি বাথ টাব ব্যবহারের পর পরই তা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেয়া একটি ভালো চিন্তা, কেননা আপনি নিশ্চয় অন্যের ময়লা যুক্ত স্থানে গোসল করতে চাইবেন না। তবে, বাথটাব জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজন হয় না, কারন এটি এসটিআই ছড়িয়ে পড়ার পদ্ধতিসমূহের অন্তর্ভূক্ত নয়।


পুরুষাঙ্গে চুলকানি বা যন্ত্রণা


প্রঃ প্রতিবার মুত্রত্যাগের সময় আমার সঙ্গীর যৌনাঙ্গে অনেক যন্ত্রণা হয়। এ সমস্যায় দীর্ঘকাল ধরে চলছে, তবে সম্প্রতি এটি খারাপ অবস্থা ধারণ করেছে। দই গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরণের সমস্যা দূর হয় বলে আমি শুনেছিলাম। সে আজ সকালে প্রচুর পরিমাণে দই খেয়েছে, কিন্তু সমস্যা এখনো কমেনি।

উঃ আপনার সঙ্গীর পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে কি র‌্যাশ (ফুসকুড়ি) দেখা যাচ্ছে? অথবা মুত্রত্যাগের সময় তিনি কি ব্যথা বা যন্ত্রণাবোধ করছেন? যদি র‌্যাশ হয়, তাহলে তিনি পুরুষাঙ্গের ক্ষত বা ঘায়ের সমস্যায় ভুগছেন। এটি একটি সাধারন সংক্রমণ যা ফাংগাস যা ছত্রাক সৃষ্ট এবং এটি যৌনবাহিত নয়। ফার্মেসিতে প্রাপ্ত ক্লোট্রিমাজল ক্রীম এ সমস্যা দূর করতে পারে। যদি এতে কাজ না হয়, তাহলে চেকআপ বা পরীক্ষা করান।

মূত্রত্যাগের সময় তিনি যদি ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে পুরুষাঙ্গের নালী যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা চেকআপ বা পরীক্ষা করান এবং এর চিকিৎসা গ্রহণ করুন। যদি আপনার সঙ্গীর পুরুষাঙ্গে ক্ষত থাকে, তাহলে আপনাকেও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

দই গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিরাময় হয় এমন কোনো প্রমাণ নেই। ক্ষত বা ঘা এর উপসর্গে দই গ্রহণে উপকার পাওয়া যায় বলে কিছু সংখ্যক মহিলা মনে করেন, তবে সেক্ষেত্রে দই না খেয়ে বরং আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয়।
Read more

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

যেভাবে জনবেন যে আপনি যৌন মিলনের জন্য তৈরী | How to know you are ready to sex

আপনি কী যৌন মিলনের জন্য তৈরি?

বাংলাদেশের অধিকাংশ অধিবাসী যৌন মিলনের প্রাথমিক জ্ঞান সম্পর্কে না জেনেই খুবই অল্প বয়সে যৌন কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে পড়ে।

যদিও সম্মতির জন্য একটি আইনি বয়স রয়েছে, তবে সেই বয়সটি যৌন সম্পর্কে জড়িত হবার জন্য সঠিক সময় নয়। কারো সাথে যৌন সম্পর্কে সম্পর্কিত হওয়ার পূর্বে ঠিক কতোদিন তার সাথে সময় কাটিয়ে তাকে বুঝতে হবে তার নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা নেই। এর জন্য তৈরি হওয়ার সময় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় – বন্ধুদের চাপের মুখে পড়ে কখনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে যাবেন না।

কখন যৌন মিলন করতে হবে তা ঠিক করা

যার সাথেই থাকেন না কেন, আপনি যৌন মিলন করতে চান কী না তা সবসময় আপনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এমনকী এর পূর্বে একই ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করে থাকলেও এর অর্থ দাঁড়ায় না যে আপনাকে আবারও তা করতে হবে।

আপনি যৌন মিলনের জন্য তৈরি কী না তা মনস্থির করা জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনিই কেবল এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার কুমারীত্ব হারানোর বা আবার যৌন মিলন করার কথা যা-ই ভাবুন না কেন, তাহলে নিচের পরামর্শগুলো মনে রাখবেন।

কীভাবে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলবেন?

যৌন মিলন নিয়ে নিজে প্রস্তুত হওয়ার পূর্বে লজ্জাজনক যৌন মিলনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে এ বিষয়ক বিব্রতকর আলোচনা করা ভাল। চিন্তা করা ও কথা বলার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে, যেমনঃ

আপনারা উভয়েই এর জন্য প্রস্তুত কী না

সমকক্ষ ব্যক্তি বা সঙ্গীর চাপে নয় বরং সঠিক কারণে এ কাজ করা হচ্ছে কী না

যৌন মিলন পারস্পরিক সম্পর্কের একমাত্র বিষয় নয়, বরং একে অন্যের সাহচর্য উপভোগ করার আরো অনেক পন্থা আছে।

আপনি কী চান এবং কী চান না তা নিয়ে কথা বলুন। উভয়ের পছন্দ হয় এমন কাজও করা যায়, যেমন কথা বলা, একে অপরের পরিবারের সাথে দেখা করা, সিনেমা বা চলচ্চিত্র দেখতে যাওয়া, খেলাধূলা, হাঁটা বা গানও শুনতে পারেন।

 যৌন মিলন সম্পর্কিত যেসব প্রশ্ন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে

শারীরিক সম্পর্ক করতে হলে আপনি তাতে কীভাবে সাড়া দিবেন এবং আপনি কতদুর পর্যন্ত যেতে পারেন সে সম্পর্কে আপনাকে নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে। আপনি সাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কী না তা নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন। এটা কী সঠিক সময়, সঠিক স্থান এবং সঠিক ব্যক্তি কী না তাও নিজে ভাবুন। উক্ত ব্যক্তিকে আপনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন কী না এবং একে অন্যের প্রতি একই অনুভব কাজ করে কী না তাও ভেবে দেখুন।

শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে এমন যদি আপনি মনে করেন, তাহলে নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুনঃ

এটা কী সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে?

আপনি কী আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন?

আপনাকেও কী আপনার সঙ্গী একই রকম ভালোবাসে?

কনডম ব্যবহার করা নিয়ে কী আপনারা আলোচনা করেছেন এবং ঐ আলোচনা কী ফলপ্রসূ ছিলো?

গর্ভধারণ রোধ করার পদ্ধতিগুলো কী আপনারা গ্রহণ করেছেন?

যদি যেকোন মুহূর্তে আপনার মতামত পাল্টে যায় এবং যদি যৌন মিলনে অনিচ্ছা দেখান, তাহলে আপনারা উভয় কী এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারবেন?

যদি উপরোক্ত সব প্রশ্নের উত্তর আপনি ‘হ্যাঁ’ দিয়ে থাকেন, তাহলে যৌন মিলনের জন্য সময়টি সঠিক। তবে নিচের প্রশ্নগুলোর যেকোন একটিরও উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকলে, শারীরিক সম্পর্কের জন্য সময়টি সঠিক নাও হতে পারেঃ

আপনি কী কোনো ব্যক্তি, যেমন সঙ্গী বা বন্ধুদের চাপে পড়ে এমন করছেন?

পরবর্তী সময়ে এ সিদ্ধান্তে কী আপনি অনুতপ্ত হবেন?

আপনি কী আপনার বন্ধুদের মাঝে প্রভাব বিস্তার বা তাদের সাথে তাল মিলানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

আপনার সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য কী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

কারো সাথে সম্পর্কের মানে এই না যে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে। এমন কী যদি আপনি এর পূর্বে এক বা দুইবার যৌনমিলন করলেও আপনার ছেলেবন্ধু বা মেয়েবন্ধু প্রত্যেকবার আপনার মতোই আগ্রহী কী না তা নিশ্চিত হতে হবে।

নিরাপদ যৌন মিলনের জন্য টিপস বা পরামর্শ

যখন আপনি যৌন মিলন করতে চান, তখন তার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা সৃষ্টি এবং/অথবা যৌন বাহিত সংক্রমণ (এসটিআই), যেমন ক্লাইমিডিয়াতে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি থাকে। আপনি যার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান, তার সাথে সহবাসের পূর্বে গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ও কনডম সম্পর্কে আলোচনা করা জরুরি। এ বিষয়ে আলোচনা করা উভয়েরই দায়িত্ব।

কনডম ব্যবহার করা

যার সাথেই আপনি যৌনোমিলন করেন না কেন, এসটিআই-এ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য আপনাকে কনডম ব্যবহার করতে হবে।

যদি আপনারা বিবাহিত না হোন এবং প্রেমিক/প্রেমিকা হয়ে থাকেন, তাহলে অযাচিত গর্ভাবস্থা সৃষ্টি রোধের জন্য গর্ভনিরোধের অতিরিক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

উপযুক্ত গর্ভনিরোধ পদ্ধতি নির্বাচন করা

গর্ভনিরোধ বা জন্মবিরতির ১৫টি পদ্ধতি আছে, যার মধ্যে ইমপ্লান্ট ইনজেকশন, মিশ্রিত পিল বা বড়ি এবং শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরন মিশ্রিত পিল অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ পদ্ধতি মহিলাদের দ্বারাই ব্যবহৃত হয়, তবে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা নির্বাচন করা উভয়েরই দায়িত্ব। গর্ভাবস্থা সৃষ্টি হলে তা উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে।

নিরাপদ যৌন মিলনের ব্যাপারে কীভাবে কথা বলব?

গর্ভনিরোধের বিভিন্ন পদ্ধতির বিষয়টি যৌন মিলনের সাথে জড়িত অন্যান্য বিষয়, যেমন অপরপক্ষের অনুভূতি, কী করতে ইচ্ছুক এবং কী করতে অনিচ্ছুক প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য একটি উত্তম পন্থা হতে পারে।

আপনি এভাবে বলতে পারেন যে, ‘গর্ভনিরোধের ১৫ টি পদ্ধতি রয়েছে, যৌন মিলনের সময় আমদের কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিৎ?’ এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলো নিয়ে জানা ও আলোচনা করা উভয়ের মধ্যে আরো আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে। ১৫টি জন্মনিরোধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।

শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত সম্পর্কে জানুন

পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হতে হয়, যা অনেককেই অবাক বা আশ্চর্য করে দেয়। তাই শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহী হওয়ার ইঙ্গিত সম্পর্কে জানুন। কেউ যদি আপনাকে নীরব বা জনহীন স্থান খুঁজতে বলে, অথবা শারীরিক সংস্পর্শে আসে কিংবা হঠাৎ করে আপনাকে আকর্ষিত, বিমোহিত বা অতিরঞ্জিত প্রশংসা করতে থাকে, তবে তার অর্থ দাঁড়াতে পারে যে উক্ত ব্যক্তি আপনার সাথে যৌনমিলনে আগ্রহী, যাতে আপনার আগ্রহ নাও থাকতে পারে।

কখন শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে সে বিষয়ে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্য কেউ যাতে আপনার পরিবর্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে না দেয়, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে তা হতে দিবেন না। সময়ের পূর্বেই এ সিদ্ধান্ত নিন এবং পরিস্থিতি নিজের আওতায় রাখুন, বিশেষ করে যদি আপনি মদ্যপান করে থাকেন, কেননা ঐ অবস্থায় আপনি অসচেতন থাকবেন।

যদি পরিস্থিতি নিজের আওতায় রাখা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত না হোন, তাহলে তাহলে সেসব পরিবেশ এড়িয়ে চলুন যেখানে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হতে পারে কারো কক্ষে যাওয়া কিংবা জনমানবহীন স্থানে যাওয়া।

মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ সহায়তা করবে না

মাদক সেবন বা মদ্যপানে আসক্ত হওয়ার মাধ্যমে অনেক ব্যক্তিই শারীরিক সম্পর্ক করেন বা কুমারীত্ব হারান। কিছুক্ষণ মদ্যপান করার পর, নিজের চেতনা ও বিচক্ষণতা হারানোর সম্ভাবনা থাকে এবং ঐ সময় এমন অনেক কিছুই করে থাকতে পারেন যা স্বাভাবিক অবস্থায় আপনি করেন না। ঘুম থেকে জাগার পর ঐসব কাজের কথা মনে করে আপনি অনুশোচনা করতে পারেন কিন্তু যা করেছেন তা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ আপনার কাছে থাকবে না। মাতাল থাকা অবস্থায় অধিকাংশ ব্যক্তিই কনডম ব্যতীত যৌন মিলন করে থাকেন, যা অযাচিত গর্ভাবস্থা সৃষ্টির বা যৌনবাহিত সংক্রমণে (STIs) সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।



যৌন মিলন ও আইন

১৬ বছর বয়স থেকে নিজের সম্মতিতে যৌন মিলন করা আইনিভাবে বৈধ। যদি বয়স ১৩ এর নীচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে থাকে কেননা ঐ বয়সে যৌন মিলনে সম্মতি দেয়া আইনিভাবে বৈধ নয়।
Read more

ভালোবাসার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | The good side and bad side of LOVE

কেন ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ ?



কাউকে ভালবাসলে প্রেমপূর্ণ হৃদয় ও মুখের হাসি ছাড়াও শরীর-স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে লাভবান হওয়া যায়।

কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে এটি জানতে পারা যায় যে, একটি ভালোবাসাময় সম্পর্ক, স্পর্শ এবং শারীরিক মিলন রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যের আরো অনেক উপকারিতা বয়ে আনে। কোনো সম্পর্কই সুস্বাস্থ্য এবং সুখ আনয়ন নিশ্চিত করে না, কিন্তু প্রেম স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সাহায্য করে।

  • শারীরিক সম্পর্ক হৃদপিন্ডের জন্য ভালো


সুস্বাস্থ্য এবং আনন্দ একই সাথে পেতে চান? যৌনমিলনসহ অন্যান্য যেকোন পদ্ধতিসমূহ, যা হৃদপিন্ডের ব্যায়াম করায় সেসব পদ্ধতি, আপনার জন্য হিতকর। যৌন আকাঙ্ক্ষা হৃদপিন্ডের গতি বাড়িয়ে দেয়, এবং অরগাজম বা প্রচন্ড উত্তেজনার সময় হৃদপিন্ডের প্রতি মুহূর্তের হৃদস্পন্দন সর্বোচ্চ সীমায় পৌছে যায়।

তবে অধিকাংশ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে, আপনি তা কতটুকু সবলে বা উৎসাহের সাথে করবেন তার উপর নির্ভর করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, অর্গাজমের সময় হৃদস্পন্দনের গড়মান, হালকা ব্যায়াম যেমন সিঁড়িতে উপরে উঠার সময় হৃদস্পন্দনের গড়মানের সমান হয়। অধিকাংশ ব্যক্তিকে কর্মক্ষম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট (২ ঘন্টা ৩০ মিনিট) মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম করা উচিৎ, সে ব্যায়াম হতে পারে সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটা।

সপ্তাহে ১৫০ মিনিট অরগাজম হওয়ার সুযোগ বা ভাগ্য যদি না থাকে, তাহলে সাইক্লিং, দ্রুতগামী হাঁটা বা নাচের চেষ্টা করতে পারেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অর্থ এটি দাঁড়ায় না যে, এর কারণে শারীরিক মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, শারীরিক মিলনে হৃদপিন্ডে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়, সেই একই প্রভাব সৃষ্টিকারী দৈনন্দিন কাজ বুকে ব্যথা সৃষ্টি (২ বার সিঁড়িতে হাঁটলে যেমন হয়ে থাকে) না করে যতটুকু সময় করা যায়, ঠিক ততটুকু সময় যৌন মিলন করা যাবে।

দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন দুশ্চিন্তামুক্ত করে

গবেষণা অনুসারে বিশেষ ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরার মাধ্যমে রক্তচাপ কমে যায়। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, যেসব দম্পতি বা কপোত-কপোতী একে অপরের হাত ১০ মিনিট ধরে রাখার পাশাপাশি ২০ সেকেন্ড জড়িয়ে ধরে রেখেছেন, তারা ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকতে হয় এমন পরিস্থিতিতে, যেমন উপস্থিত বক্তৃতার ক্ষেত্রে, ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। স্পর্শ করা ছাড়া যেসব দম্পতি নিষ্ক্রিয় থেকেছেন, তাদের সাথে আলিঙ্গনকারীদের তুলনা করে নিম্নোক্ত ফলাফল দেখা যায়ঃ

  • কম মাত্রার হৃদস্পন্দন
  • নিম্ন রক্তচাপ মাত্রা
  • হৃদস্পন্দন কম হারে বৃদ্ধি পাওয়া


সুতরাং, আপনার সঙ্গীকে আলিঙ্গন করুন- তা আপনার রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যৌন কর্মকাণ্ড ছাড়াও অনুরূপ ফলাফল দেখতে পাওয়া যায়, যদিও এক্ষেত্রে পুরুষ ব্যতীত শুধুমাত্র মহিলাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমতে দেখতে পাওয়া যায় ।

  • শারীরিক মিলন চাপ কমাতে পারে


কাজের চাপে অনেক বেশী? সকালে কাজের পিছনে ছুটে যাওয়ার কারনে মেজাজ খারাপ ও বিরক্ত? ৪৬ জন পুরুষ ও মহিলাদের উপর পরিচালিত একটি ছোট গবেষণা অনুসারে একুশ শতাব্দীর জীবনযাপন পদ্ধতির যাবতীয় চাপ ও দুশ্চিন্তা যৌনমিলন দূর করে দিতে পারে।

অন্তর্ভেদী (penetrative sex), অন্তর্ভেদী নয় (non-penetrative sex) এমন এবং হস্তমৈথুন প্রভৃতি যৌনকর্ম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীরা ডাইরি বা খাতায় লিখে রেখেছিলেন। চাপের মুখে থাকতে হয় এমন পরীক্ষা, যেমন উপস্থিত বক্তৃতা ও উচ্চস্বরে মানসাংক করা প্রভৃতি কাজ করার সময় যেসব ব্যক্তিরা যৌনমিলন করেননি তারা সর্বোচ্চ চাপে ছিলেন। শুধুমাত্র অন্তর্ভেদী যৌনমিলন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার অর্থ দাঁড়ায় তারা চাপের সাথে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন।

অন্তর্ভেদী যৌন মিলন ছাড়া অন্তরঙ্গতা বা অরগাজম হওয়াকে অধিকাংশ ব্যক্তি দুশ্চিন্তামুক্ত বা চাপমুক্ত হতে সাহায্য করে বলে প্রমাণ পেয়েছেন। এমন অনুভব ব্যায়াম বা মেডিটেশনের সময় (ধ্যান) সময়ও পাওয়া যায়। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে অন্তর্ভেদী যৌন মিলন করতে হবে এমন কোনো কথা নেই, আপনি যে পদ্ধতিকে উত্তম বলে মনে করেন সেটিই অনুসরণ করুন।

  • সাপ্তাহিক যৌন মিলন অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করতে পারে


গবেষণাকারীদের মতে, ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) ক্ষমতা ও যৌন মিলন কতবার করা হয়- এ দুই বিষয় উভয়ের সাথে সম্পর্কিত। পেনসিলভিনিয়ায় পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, যারা সপ্তাহে এক বা দুই বার সহবাস করে, তাদের শরীরে একটি অত্যাবশকীয় রোগ-প্রতিরোধী উপাদান উচ্চ মাত্রায় পাওয়া গেছে। যারা যৌন মিলন করেননি তাদের তুলনায় যারা করেছেন তাদের মধ্যে ইমিউনোগ্লোবোলিন এ (আইজিএ) নামক এ উপাদান ৩০% বেশি মাত্রায় দেখা গেছে। তবে, যারা সপ্তাহে দুই’য়ের অধিক বার শারীরিক মিলন করেছেন, তাদের মধ্যে এ উপাদান নিম্ন মাত্রায় দেখা গেছে।

উপরোক্ত তথ্য পড়ে এখনই যৌন মিলনের দিনক্ষণ ঠিক করতে যাবেন না। সাপ্তাহিক শারীরিক মিলন আসলেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে কি না তা প্রমাণিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

  • যৌন মিলনকারী নিজেদের সুস্থ মনে করেন


এটা মনে হতে পারে যে, যেসব ব্যক্তিদের নিজেকে সতেজ বা সুস্থ মনে হয়, তারা হয়তো অধিকবার যৌনমিলন করেন। কিন্তু যৌনকর্ম ও সুস্থ থাকার মানসিকতার মধ্যে সম্পর্ক থেকে থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। ৫৭-৮৫ বছর বয়সী আমেরিকানদের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা শারীরিকভাবে মিলিত হননি তাদের থেকে, যারা হয়েছেন তারা তাদের সাধারণ স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন উচ্চহারে করেছেন।

তবে এর পিছনে শুধু যৌনমিলন নয়, ভালোবাসাও কাজ করে থাকে। যেসব ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকেন, তারা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘ভালো’ অথবা ‘খারাপ’ শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে “খুবই ভালো” অথবা “চমৎকার” এ জাতীয় শব্দ বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন। এ থেকে বোঝা যায় মানসিক ও সামাজিক সমর্থন আমাদের সুস্থ থাকার মানসিকতা শতগুণে বাড়িয়ে দেয়।

  • ভালোবাসাময় সম্পর্ক অ্যাঞ্জিনা ও আলসারের ঝুঁকি হ্রাসকারী


একটি সুখময় বৈবাহিক সম্পর্ক অন্তত পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যাঞ্জিনা ও আলসারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে ।

১০০০০ পুরুষদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যেসব পুরুষ তাদের স্ত্রীদের থেকে প্রেম ও সহায়তা পান, তারা অ্যাঞ্জিনা ও আলসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে কম ছিলেন। বয়স বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ থাকা প্রভৃতি ঝুঁকির পিছনেও একই কারন কাজ করছিল। অনুরূপভাবে, ৮০০০ পুরুষদের উপর পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় নিম্নোক্ত কারনে ডুয়োডেনাল আলসারে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে তারা বেশি থাকতেন বলে ব্যক্ত করেছেনঃ

  • পারিবারিক সমস্যা    


স্ত্রীদের কাছ থেকে ভালবাসা ও সমর্থন না পাওয়ার অনুভূতি

সহকর্মীদের মাধ্যমে আঘাত পেলে প্রতিশোধ না নেওয়া, অন্য কথায় রাগ দমন করা (গবেষণাকারীদের মতে, এটা তাদের “মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি”)

গবেষণাকারীরা মনে করেন যে, চাপ, সামাজিক সমর্থনের অভাব বা নিজেকে দমিয়ে বা মানিয়ে নেওয়া পুরুষদের মধ্যে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বা আলসার আক্রান্ত  করে দেয়।

এবং যদি আপনি অবিবাহিত থাকেন…

বন্ধুদের সাথে বিকাল বা সন্ধ্যার সময়টা কাটানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

৭০ বছরের অধিক বয়স্ক ১৫০০ ব্যক্তিদের উপর ১০ বছর ব্যাপী পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, যেসব ব্যক্তির বন্ধুর সংখ্যা কম ছিলো তাদের তুলনায় যাদের প্রচুর বন্ধু ছিলো তারা অধিক দিন বেঁচে ছিলেন। গবেষণাকারীদের মতে, এরকম হওয়ার পিছনে জীবনপদ্ধতি নির্বাচনে বন্ধুদের ইতিবাচক প্রভাব, যেমন ধূমপান ত্যাগ বা ব্যায়াম করা এবং মানসিক সমর্থন প্রদান প্রভৃতি কাজ করে থাকতে পারে।

অথবা অনূড়া বা অকৃতদার থাকা…

যৌনমিলনহীন জীবন উত্তম স্বাস্থ্যের মধ্যে কোনো বাধা বা অন্তরায় নয় । একটি দলের স্বাস্থ্য ও বার্ধক্যগ্রস্থ হওয়া সম্পর্কে জানতে ৭০০ জন বৃদ্ধ নানদের (মঠবাসিনী বা প্রব্রাজিকা) উপর দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালিত হওয়া গবেষণায় দেখা গেছে ৯০ ও ১০০ বছর অতিক্রান্ত হওয়া অধিকাংশ প্রব্রাজিকা ঐ বয়সেও কর্মঠ রয়েছেন।

১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া এ পরীক্ষার প্রথম দিকে অংশগ্রহণকারী প্রব্রাজিকাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষা করে নেয়া হয়। গবেষকরা মঠ বা গীর্জায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে উক্ত প্রব্রাজিকাদের সামাজিক, পারিবারিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে পারেন। এসব তথ্য থেকে ঐ নানদের জীবনপদ্ধতি ও সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যাত (উদাহরণস্বরূপ উচ্চ শিক্ষা বা প্রাথমিক জীবনে ইতিবাচক মানসিকতা প্রত্যাখ্যিত হওয়ার কারন হতে পারে) হওয়ার মধ্যে যোগসূত্রতা পাওয়া যায়, তবে তা যৌন কর্মের সাথে সম্পর্কিত ছিলো না।

শারীরিক মিলনের সময়, কনডম ব্যবহার আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীঁকে অযাচিত গর্ভবতী হওয়া এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) থেকে নিরাপদ রাখবে।
Read more

ওরাল সেক্স ওরাল সেক্স | About Oral sex in Bengali

ওরাল সেক্স সম্মন্ধে

ওরাল সেক্স কী ?

সঙ্গীর যৌনাঙ্গ মুখ, ঠোঁট অথবা জিহ্বা দ্বারা উত্তেজিত করাকে ওরাল সেক্স বলে। পুরুষাঙ্গ (ফেলাশিও), যোনি, যোনিদ্বার বা ক্লিটোরিস (কানিলিঙ্গাস) অথবা পায়ু চোষা বা লেহন করা (অ্যানালিঙ্গাস) ওরাল সেক্স এর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।

ওরাল সেক্স কি খুবই সাধারণ?

অনেক ব্যক্তিই যৌনসঙ্গমের পূর্বে বা এর পরিবর্তে ওরাল সেক্স করে থাকে।

যদি আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে ওরাল সেক্স করতে ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে উভয়ই উপভোগ করতে পারছেন এমন পদ্ধতি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

ওরাল সেক্স কী নিরাপদ?

ওরাল সেক্স করার ফলে গর্ভধারনের কোনো ঝুঁকি থাকে না। তবে ওরাল সেক্স করার ফলে কয়েকটি এসটিআই-এ (যৌনবাহিত সংক্রমন) আক্রান্ত হওয়া বা ঐসব রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ওরাল সেক্স-এর কারণে যেসব এসটিআই ছড়িয়ে পড়তে পারে সেগুলো হলোঃ

ক্লামিডিয়া
যৌনাঙ্গে ওয়ার্ট বা আঁচি লহওয়া
হেপাটাইটিস বি
হেপাটাইটিস এ
হেপাটাইটিস সি
হার্পিস
সিফিলিস
শ্রোণীচক্রে উকুন (ক্র্যাব)
ওরাল সেক্স গ্রহণের চেয়ে প্রদানে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ প্রদানের সময় যৌনাঙ্গের তরলের সাথে সংস্পর্শ বেশি থাকে। মুখে ঘা, ক্ষত বা আলসার থাকলেও এই ঝুঁকির হার উচ্চ মাত্রায় থাকে। ওরাল সেক্স প্রদানের পূর্বে দাঁত ব্রাশ করা বা দ্রুত ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন কেননা এর ফলে মাড়িতে রক্তপাত হতে পারে। যদি মুখকে পরিষ্কার ও সতেজ করতে চান, তাহলে মাউথওয়াশ (মুখ ধোবার তরল প্রতিষেধক) অথবা মিন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

যদি এসটিআই-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করে থাকেন, তাহলে নিকটস্থ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। এসটিআই চিকিৎসার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা ভেনেরোলোজিস্টের (এসটিআই বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নেয়া সবচেয়ে উত্তম হতে পারে, তবে কাছাকাছি উক্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা না থাকলে জেনারেল ফিজিশিয়ান বা গাইনাকোলোজিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

ওরাল সেক্সের মাধ্যমে কি এইচআইভি হতে পারে?

ওরাল সেক্সের মাধ্যমে এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়া সম্ভব, যদিও অরক্ষিত যোনিপথ ও অ্যানাল সেক্সের চাইতে ওরাল সেক্সে এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এতে ঝুঁকি কম থাকে তবে বিশেষ করে যদি মুখে কোনো ক্ষত থেকে থাকে এবং সঙ্গী যদি মুখে যৌনাঙ্গের তরল অবমুক্ত করেন তাহলে ঝুঁকির হার বৃদ্ধি পেতে পারে।

কীভাবে ওরাল সেক্সকে নিরাপদ করা যায়?

পুরুষরা ওরাল সেক্সের ক্ষেত্রে, এসটিআই-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য কনডম ব্যবহার করুন। যদি প্রচলিত কনডমের স্বাদ পছন্দ না হয়, তাহলে অন্যান্য ভিন্ন স্বাদের কনডম ব্যবহার করুন।

নারীরা ওরাল সেক্স করার সময় বা পায়ুপথ চোষা বা লেহন করার সময় বাঁধ ব্যবহার করা জরুরী। এটি একটি ছোট, পাতলা চারকোণা পর্দার মতো যা ল্যাটেক্স অথবা রাবার দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি যোনিপথ অথবা পায়ু এবং মুখের মধ্যে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে, ফলে এসটিআই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। এ জিনিসটি বাংলাদেশে পাওয়া যায় না।
Read more

অ্যানাল সেক্স সম্পর্কে বিস্তারিত


অ্যানাল সেক্স কী?


অ্যানাল সেক্স হলো এক ধরণের যৌন আচরণ বা কাজ যা অ্যানালের (পায়ু বা শরীরের নিচের অংশ) সাথে সম্পর্কিত। নিম্নোক্ত কাজ এর অন্তর্ভূক্ত থাকেঃ

পায়ুপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানো
পায়ুপথে আঙ্গুল কিংবা যৌনক্রিয়ায় ব্যবহৃত খেলনা বা সহকারী জিনিষ, যেমনঃ ভাইব্রেটর, প্রবেশ করানো
ওরাল সেক্স (মুখ বা জিহ্বা ব্যবহার করে পায়ুপথকে উত্তেজিত করা, এটি রিমিং নামেও পরিচিত)
অ্যানাল সেক্স এর প্রধান ঝুঁকিসমূহ কী কী?

যৌন সহবাসের অন্যান্য পদ্ধতি থেকে পায়ু অভ্যন্তরে প্রবেশকারী (penetrative) অ্যানাল সেক্স বা পায়ুপথের সহবাসে এসটিআই (যৌনবাহিত সংক্রমন) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কেননা পায়ুপথের আবরণ পাতলা থাকে যা সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সংক্রমণের প্রবণতা আরো বাড়িয়ে যায়।

অ্যানাল সেক্স দ্বারা যেসব এসটিআই ছড়িয়ে পড়তে পারে সেগুলো হলোঃ


  • ক্লামিডিয়া
  • যৌনাঙ্গে হার্পিস
  • যৌনাঙ্গে ওয়ার্ট বা আঁচিল হওয়া
  • গনোরিয়া
  • হেপাটাইটিস বি
  • এইচআইভি
  • সিফিলিস

হেপাটাইটিস এ ও ই. কোলাই এর মতো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সৃষ্ট কিছু সংক্রমণ ওরাল-অ্যানাল সেক্স দ্বারা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আঙ্গুল অন্য কারো পায়ুপথে প্রবেশ করানোর ফলেও এসটিআই-এ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কীভাবে অ্যানাল সেক্সকে নিরাপদ করা যায়?

অভ্যন্তরে প্রবেশকারী (penetrative) অ্যানাল সেক্স করার সময় কনডম ব্যবহার করুন যা এসটিআই-এর সংক্রমন থেকে রক্ষা করবে।তরল-নির্ভর লুব্রিক্যান্ট (পিচ্ছিলকারক পদার্থ) ব্যবহার করুন, যা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। তেল-নির্ভর লুব্রিক্যান্ট (লোশন বা ময়েশ্চারাইজার) ব্যবহারের ফলে ল্যাটেক্সের (রাবার) কনডম ফেটে অথবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অ্যানাল সেক্স এর পরপরই যোনিপথে সহবাস করলে পুরুষ এবং নারী উভয় দম্পতিদের নতুন কনডম ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ এর ফলে পায়ুপথ থেকে যোনিপথে ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তরে বাধার সৃষ্টি হয়। যোনিপথে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়।

লিঙ্গ প্রবেশকালে তীব্র ব্যথা বোধ হলে অ্যানাল সেক্স করা হতে বিরত থাকুন। অ্যানাল সেক্স করার সময় সাবধান থাকা ও এটি সহজভাবে নেয়া জরুরী। শরীরের এই অংশে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা যোনিপথ থেকেও বেশি থাকে, কারণ যোনিপথের পুরু আবরণ ঘর্ষণ সহ্য করতে যেমন অভ্যস্ত থাকে, পায়ুপথের নরম আবরণ তা পারে না। একটি ছোট আঘাতের কারণে ব্যথাময় ফাটল (মলদ্বারে ফাটল যা থেকে প্রায়ই রক্তপাত হয়) অথবা ফিস্টুলাসের (ভগন্দর রোগ) সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যার সমাধান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করার প্রয়োজন হয়।
Read more

যৌনক্রিয়া এবং এসংক্রান্ত ঝুঁকি এবং কন্ডমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত

যৌনক্রিয়া এবং এসংক্রান্ত ঝুঁকি এবং কন্ডমের সঠিক ব্যবহার

যৌনক্রিয়া বা সেক্সের মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায় তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন । প্রতিক্ষেত্রেই কনডম আপনাকে ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাবে ।


  • যোনিপথে যৌনক্রিয়া


যখন পুরুষের জননাঙ্গ স্ত্রীর যোনিপথে  প্রবেশ করে তখন কিছুরোগ সংক্রমনের সম্ভাবনা থাকে । যদি কনডম ব্যবহার করা না হয় তখন গর্ভবতী হবার বা রোগ সংক্রমনের আশংকা বেড়ে যায় ।

রোগগুলো হল:


  • ক্ল্যামাইডিয়া
  • জেনিটাল হার্পিস
  • জেনিটাল ওয়ার্টস
  • গনরিয়া
  • এইচ আই ভি
  • সিফিলিস

জননাঙ্গ যোনিপথে সম্পূর্ন প্রবেশ না করলেও অথবা বীর্য নির্গমণ না হলেও রোগ সংক্রমন হতে পারে । এমনকি জননাঙ্গের সামান্য প্রবেশ ও ঝুঁকির কারন হতে পারে । সেক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করা নিরাপদ ।

  • অপরিকল্পিত গর্ভধারন রোধে


গর্ভধারন রোধের অনেক পদ্ধতি রয়েছে;যেমন-জন্মনিরোধক ইনজেকশন, জন্মনিরোধক বড়ি, ইমপ্ল্যান্ট এবং প্যাচ । তবে শুধুমাত্র কনডমই একইসাথে গর্ভনিরোধন এবং রোগ সংক্রমন থেকে রক্ষা করে । এটিই সর্বৎকৃষ্ট পদ্ধতি ।


  • পায়ুপথে যৌনক্রিয়া


এক্ষেত্রে পুরুষের জননাঙ্গ তার সঙ্গীর পায়ুপথে প্রবেশ করে । অনেকে এপ্রক্রিয়াকে সহবাসের অংশ হিসেবে মনে করেন । সাধারনত সমকামীদের মধ্যে এপ্রক্রিয়া বেশি প্রচলিত ।

পায়ুপথের যৌনক্রিয়ায় রোগ সংক্রমনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে কারন পায়ুপথ সহজে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফলে রোগাক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।

রোগগুলো হলোঃ


  • ক্ল্যামাইডিয়া
  • জেনিটাল হার্পিস
  • জেনিটাল ওয়ার্টস
  • গনরিয়া
  • এইচ আই ভি
  • সিফিলিস

প্রতিক্ষেত্রেই কনডম আপনাকে ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাবে ।


  • মুখগহ্বর ব্যবহার করে যৌনক্রিয়া


যোনি, পুরুষের জননাঙ্গ, পায়ুপথ চোষা বা চাঁটা এ প্রক্রিয়ার অন্তর্গত । সমকামীদের মধ্যে এর প্রচলন দেখা যায় । এ প্রক্রিয়াতেও রোগ সংক্রমনের ঝুঁকি থাকে । যদি আপনার সঙ্গীর অথবা আপনার কারও মুখ,যোনি বা পায়ুপথে কোন ক্ষত থাকে তাহলে সেই ক্ষতর মাধ্যমে ইনফেকশন ছড়াতে পারে ।

সাধারনত বীর্য অথবা যোনিপথের তরল গ্রহন না করলে রোগের ঝুঁকি কম,তবু কিছু ঝুঁকি থেকেই যায় ।

রোগগুলো হলোঃ


  • ক্ল্যামাইডিয়া
  • জেনিটাল হার্পিস
  • জেনিটাল ওয়ার্টস
  • গনরিয়া
  • এইচ আই ভি
  • সিফিলিস
  • হেপাটাইটিস এ, বি এবং সি

মুখগহ্বর ব্যবহার করে যৌনক্রিয়ায় হারপেস ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি সবথেকে বেশি,এইচ আই ভি তুলনামূলকভাবে কম ।

এক্ষেত্রেও কনডম ব্যবহার করা নিরাপদ ।

কনডম বিভিন্ন প্রকারের পাওয়া যায়,আপনি যে কোনটা ব্যবহার করতে পারেন।  কনডমটিতে ইউরোপিয়ান সি ই স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন থাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে ।


  • যৌনক্রিয়ায় আঙ্গুলের ব্যবহার


এ প্রক্রিয়ায় কেউ তার সঙ্গীর যোনি বা পায়ুপথে এক বা একাধিক আঙ্গুল প্রবেশ করায় । এপ্রক্রিয়ায় রোগ সংক্রমনের সম্ভাবনা খুবই কম,তবু কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায় ।

যদি আঙ্গুলে কোন ক্ষত থাকে,তা যতই ছোট হোক না কেন সেখানে এইচ আই ভি বা হেপাটাইটিস বি অথবা সি সংক্রমন হতে পারে ।

কেউ কেউ সব আঙ্গুলসহ কব্জী অবধি সঙ্গীর যোনি বা পায়ুপথে প্রবেশ করায় । এক্ষেত্রেও ছোট ক্ষত থেকে ইনফেকশন হওয়ার আশংকা থাকে । নিরাপত্তার জন্য ‘সার্জিক্যাল গ্লাভস’ ব্যবহার করা যেতে পারে ।

ছবিসূত্র:shutterstock.com
Read more

যৌন মিলনের আগে যা করতে হবে | Before Do sex with your partner


যৌনসঙ্গম আগে কি কি জানতে হবে?


১। আপনি প্রথমবার যৌনসঙ্গম করে গর্ভবতী হতে পারেন। অনেকে মনে করেন প্রথমবার যৌনসঙ্গম করলে গর্ভবতী হবার কেনা সম্ভাবনা নেই । এটি একদমই ভুল একটা ধারণা। একজন ছেলে এবং মেয়ে যদি গর্ভনিরোধক ব্যবহার না করে যৌনসঙ্গম করে তবে মেয়েটির গর্ভবতী হবার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা প্রথমবার হোক অথবা দিত্বীয় বা তৃতীয় বার, একটা মেয়ের শরীরে মাসের যে সময়টিতে ডিম্ব নিঃসরণ হয় তখন যদি কোন রকম নিরোধ ছাড়াই সে যৌনসঙ্গম করে তাহলে সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই গর্ভবতী হবে। এমনকি এটি মেয়েটির প্রথম মাসিকের আগে আগেও হতে পারে।

এজন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণে আপনি কন্ট্রাসেপটিভ পিল অথবা কনডম ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনাকে গর্ভবতী হওয়া থেকে সুরক্ষিত করবে। অবশ্য কনডম ব্যবহারের একটি বাড়তি সুবিধা হল এটি আপনাকে সব ধরনের যৌন সংক্রামক রোগ থেকেও সুরক্ষিত রাখে। আপনি যৌনসঙ্গম করার আগে আপনার সঙ্গীর সাথে আলাপ করে নিন যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ এর কোন পদ্ধতি আপনারা ব্যবহার করতে চান, সেটি পিল না কনডম । এর পাশাপাশি এর ব্যবহারের নিয়মগুলোও ভালো করে জেনে নিন। কেননা সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে জন্মনিয়ন্ত্রকগুলো কখনই আপনাকে প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

২। আপনার সঙ্গী যদি তার পুরুষাঙ্গ বীর্যপাত হবার আগেও বের করে নেয় তারপরও আপনার গর্ভধারনের সম্ভাবনা আছে। কারণ অনেকের বীর্য পাতের পূর্বেও কিছু বীর্য/স্পার্ম ভিতরে পরতে পারে এবং যৌন সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাছাড়া সকল পুরুষ এভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। তাই অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে বলুন।

৩। মাসিকের সময় যৌনসঙ্গম করলেও গর্ভবতী হতে পারেন। অনেকে ভাবেন মাসিকের সময় অথবা তার আগে পরে নিরাপদ সময় বেছে যৌনসঙ্গম করলে গর্ভবতী হবার কোন সম্ভাবন নাই। তবে অনেক শুক্রাণু রয়েছে যেগুলা অনেকদিন বাঁচে এবং সেগুলা আপনাকে গর্ভবতী করতে সক্ষম।

৪ আপনি দাড়িয়ে বা বসে অথবা যেকোন অবস্থায় যৌনসঙ্গম করলেই গর্ভবতী হতে পারেন। আপনি হয়তোবা শুনে থাকবেন একটি মেয়ে দাড়িয়ে যৌনসঙ্গম করলে কখনো গর্ভবতী হবে না। কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্র বলে এমন কোন কথার ভিত্তি নেই। যৌনসঙ্গমের এমন কোন অবস্থান নেই অথবা এমন কোন জায়গা নেই ( বাথরুম,গোসলের সময় ) যেখানে যৌনসঙ্গম করলে কেউ গর্ভবতী হবেনা।

৫ তবে আপনি ওরাল যৌনসঙ্গম করে গর্ভবতী হবেন না। কেননা গর্ভবতী হতে হলে শুক্রাণু আপনার জরায়ুতে পৌছাতে হবে। এমনকি আপনি স্পার্ম গিলে ফেললেও প্রেগ্ন্যান্ট হবার সম্ভাবনা নেই । তবে আপনি গনোরিয়া, ক্লামাইডিয়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন । তাই কনডম ব্যবহার করা উত্তম।

৬। মাদক সেবন আপনাকে মিলনে পারদর্শী করেনা। মাদক সেবন করলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই তারা এমন কিছু করতে পারেন যৌনসঙ্গম করার সময় যেটির জন্য পরে অনুশোচনা বোধ করতে হতে পারে।

৭ আপনি পায়জামা, প্লাস্টিক ব্যাগ , আন্ডারওয়্যার , চিপস এর প্যাকেট কনডম এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারবেন না। শুধুমাত্র কনডমই পারবে আপনাকে গর্ভধারন এবং যৌন সংক্রামক অসুখের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দিতে।

৮ অনেকে মনে করেন যৌনসঙ্গম না করলে ছেলেদের পুরুষাংগ ফেটে যেতে পারে।এমন কথার কোন ভিত্তি নাই । কেননা যৌনসঙ্গম না করলে কোন ছেলের কোন ক্ষতি হয়না। শুক্রাণু সবসময় তৈরি হয় এবং তা শরীরের মাঝে এবজর্ব হয়ে যায় ।

৯। কনডম কখনো ধুয়ে পুণ:ব্যবহার করা যায়না। কনডম কখনো একবারের বেশি দুইবার ব্যবহার করা যায়না। কনডম ব্যবহার করে সেটি ফেলে দিবেন । এটি ছেলে এবং মেয়েদের উভয় ধরণের কনডমের ক্ষেত্রে সত্য। ৩০ মিনিট পরই কনডম পরিবর্তন করা উচিত কেননা কনডম দুর্বল হয়ে যায়।

১০। একবার যৌনসঙ্গম করাই গর্ভধারন হবার জন্য যথেষ্ট। অনেকে মনে করেন গর্ভধারন হবার জন্য অনেকবার যৌনসঙ্গম করতে হয় । তবে সঠিক সময়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া একবার যৌনসঙ্গম করাই যথেষ্ট ।

১১। যৌন সংক্রামক রোগে সবসময় লক্ষণ প্রকাশ পায়না। অনেকে মনে করেন প্রস্রাবের সময় জালা পোড়া করলে, যৌনাঙ্গ থেকে কোন কিছু বের হলে অথবা কোন বাজে গন্ধ বের হলে বুঝা যায় যে তার যৌন সংক্রামক রোগ আছে, তবে আসলে তা নয় । অনেক সময় তেমন কোন লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে এবং দেখা দিলেও আপনি সেটি খেয়াল নাও করতে পারেন । আপনি যদি মনে করেন আনার এমন হতে পারে তবে ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

১২। মেয়েদের প্রথম মাসিক হলেই সে যৌনসঙ্গম করবার জন্য যোগ্য নয়। মাসিক শুরু হওয়া মানে এই নয় যে আপনি যৌনসঙ্গম করবার জন্য যোগ্য। একেকজন একেক সময় যৌনসঙ্গম করতে আগ্রহী হয় । যদি আপনার বন্ধুরা যৌনসঙ্গম করে তবে আর মানে এই নয় যে আপনাকে ও করতে হবে। যৌনসঙ্গম করবার আগে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত।
Read more

যৌন ডাক্তার © 2014. All Rights Reserved | Powered By Blogger

Published By Pro Templates Lab | Designed by- Neon